Logo Logo

নড়াইলে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু, তিন শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে


Splash Image

নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়ায় মো. সোলাইমান ইসলাম (১২) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তাকে মারধরের অভিযোগ উঠলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


নিহত সোলাইমান সদর উপজেলার রামচন্দ্র গ্রামের সৈয়দ ইকরামুল ইসলামের ছেলে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে নড়াইল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা সৈয়দ ইকরামুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, রাতে তার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার পর মাদ্রাসা থেকে পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, সোলাইমান অসুস্থ হয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে স্বজনরা মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুপুর ২টার দিকে যশোর নেওয়া হচ্ছিল। পথে তার মৃত্যু হয়।

তবে সোলাইমানকে কোনো শিক্ষক মারধর বা নির্যাতন করেননি বলে দাবি করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, রাত সাড়ে ৩টার দিকে সোলাইমান অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং গলায় ব্যথার কথা জানায়। এ সময় তাকে প্রাথমিকভাবে নাপা ওষুধ ও গরম পানি দেওয়া হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। এরপর স্বজনরা এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

মারকাযুল কোরআন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াদাৎ আল মামুন বলেন, মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক সোলাইমানকে কোনো ধরনের নির্যাতন করেননি। পরীক্ষায় নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কিংবা এ ঘটনায় মাদ্রাসার কেউ জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী যেকোনো শাস্তি মেনে নেওয়া হবে।

এদিকে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সোলাইমান অসুস্থ হওয়ার পর সকাল পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে যে সময়ের ব্যবধান হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং অসুস্থতার সঙ্গে কোনো ধরনের নির্যাতনের সম্পর্ক ছিল কি না, তা চিকিৎসা প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার পর বুধবার বিকেলে মাদ্রাসার শিক্ষক ইউসুফ হায়দার, হাসিবুর রহমান ও ফাহাদ শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসা প্রতিবেদন পাওয়ার পর সোলাইমানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...