বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কঠোর পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের কাজী বল্লভদী গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে নিহত রুবাইয়া বেগম একই উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে রুবাইয়া ও আহাদের বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের তিন বছর পর সৌদি আরব যাওয়ার জন্য স্ত্রীর পরিবারের কাছে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন আহাদ। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি ২ লাখ টাকার জন্য রুবাইয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট যৌতুকের টাকা না পেয়ে আহাদ তার স্ত্রীকে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে মুখে বিষ প্রয়োগ করে তাকে হত্যা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের মা রোমেছা বেগম বাদী হয়ে আহাদ শেখসহ পরিবারের পাঁচজনকে আসামি করে সালথা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৯ সালে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত মূল অভিযুক্ত আহাদ শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার দুই ভাই মোহাম্মদ শেখ ও মাহিম শেখকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে এই রায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...