বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মুকসুদপুর উপজেলায় এক শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
বর্তমানে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া মুকসুদপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে আরও ৫ জন শিশু ভর্তি আছে।
সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা জানান, গোপালগঞ্জে হাম শনাক্তের জন্য কোনো পরীক্ষাগার নেই। ফলে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। সাধারণত একটি নমুনার রিপোর্ট পেতে ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা সময় লাগলেও সারাদেশে নমুনার চাপ থাকায় বর্তমানে রিপোর্ট পেতে ৭ দিনেরও বেশি সময় লাগছে।
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, দেশে জেলা পর্যায়ে হাম শনাক্তের কোনো ল্যাব না থাকায় নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। তবে হামের উপসর্গ সহজেই শনাক্তযোগ্য হওয়ায় চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, জেলার সব সরকারি হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে কোনো রোগী এলে দ্রুত চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ করে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো এবং বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, জেলায় শিশুদের জন্য হামসহ ১১টি রোগের টিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। হামের বিস্তার রোধে আগামী রোববার থেকে গোপালগঞ্জে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
উল্লেখ্য, জেলার মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা তুহিন শেখের ১০ মাস বয়সী কন্যা তুবা ইসলাম তোহা গত ১৯ মার্চ জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরে তার শ্বাসকষ্ট ও শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে গত ২৭ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পরপরই গোপালগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসে। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল শিশুটির বাড়ি পরিদর্শন করে এবং আশপাশের এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করে। একই সঙ্গে শিশুদের মধ্যে দ্রুত হামের টিকা প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...