Logo Logo

হামের হট স্পট গোপালগঞ্জ, উপসর্গ নিয়ে ৪৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি


Splash Image

হামের হট স্পট গোপালগঞ্জ, হাসপাতলে ভর্তি ৪৩ শিশু

গোপালগঞ্জ হয়ে উঠছে হামের হট স্পট। ইতোমধ্যে ৪৩ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে ১০ মাস বয়সি এক কন্যা শিশু মারা গেছে। ফলে সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।


বিজ্ঞাপন


এদিকে, গোপালগঞ্জে হাম শনাক্ত করার কোন ল্যাব নেই। ফলে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠাতে হচ্ছে ঢাকায়। ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা থেকে ৩০টি হামের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। হামের লক্ষণ নিয়ে কোন রোগী আসলে বিষয়টি দ্রুত সিভিল সার্জন অফিসে জানাতে হবে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৩ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। ভর্তি হওয়া ৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে একজনের হাম পজেটিভ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। বর্তমানে উপসর্গ নিয়ে ১২ জন রোগী গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছে।

একটি নমুনা পরীক্ষা করতে অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগছে। তবে নমুনার চাপ থাকলে তা ৭ দিনেরও বেশি সময় পার হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ছোট শিশুদের সাথে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে মা কিংবা বাবা। সন্তান কবে সুস্থ হবে আর কবে বাড়ি ফিরবেন সেই আশায় দিন গুনছেন তারা। সন্তানকে যেন একটি পলকও দূরে রাখতে চান না। হঠাৎ করে হামের প্রদূর্ভাব বাড়ায় আতঙ্কে রয়েছে অভিভাবকেরা। বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১২ জন রোগী এ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছে।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেশ বিশ্বাস বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে ২০ শয্যার নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে শিশুদের প্রতি যত্ন নিতে হবে। কোন ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে।’

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোঃ ফারুক বলেন, ‘গোপালগঞ্জসহ দেশের অন্য কোনো জেলা পর্যায়ে হাম শনাক্ত করার ল্যাব নেই। হামের নমুনা সংগ্রহ করে তা ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে হামের লক্ষণ সরাসরি দেখা দেওয়ায় ল্যাব কোনো প্রয়োজন হয় না। আর ল্যাব না থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইতোমধ্যে সকল সরকারি হাসপাতালগুলোতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে হামের লক্ষণ নিয়ে কোন রোগী আসলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দিতে হবে। দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করে তা পাঠাতে ও সিভিল সার্জন অফিসকে বিষয়টি দ্রুত জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৯ মার্চ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের তুহিন শেখের তৃতীয় সন্তান ১০ মাসের তুবা ইসলাম তোহার জ্বর দেখা দেয়। পরে শ্বাসকষ্ট ও সারা শরীরে হাম দেখা দেয়। এরপর ২৭ মার্চ তোহা হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে মারা যান। এরপরই নড়েচড়ে বসে গোপালগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগ। পরে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক তোহার বাড়ি যান। একই সাথে আশপাশের গ্রামে তথ্য সংগ্রহ করে হামের টিকার দেয়ার নির্দেশও দেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...