বিজ্ঞাপন
মার্কিন বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোল্লি খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই প্রস্তাব দিয়েছেন। পেশায় ব্যবসায়ী এবং ইতালীয় বংশোদ্ভূত জাম্পোল্লির যুক্তি হলো, ইতালির মতো ঐতিহাসিকভাবে সফল একটি দলের বিশ্বকাপে থাকা বাঞ্ছনীয়। উল্লেখ্য, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি; এবার তারা প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে বিদায় নেয়।
জাম্পোল্লি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, "আমি ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোকে বলেছি যেন ইরানের জায়গায় ইতালিকে নেওয়া হয়। একজন ইতালীয় হিসেবে ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত (যুক্তরাষ্ট্র) বিশ্বকাপে 'আজ্জুরি'দের দেখা আমার স্বপ্ন। চারবার শিরোপাজয়ী দল হিসেবে তাদের সেই যোগ্যতা রয়েছে।"
বিশ্লেষকরা এই প্রস্তাবকে কেবল ফুটবলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন না, বরং এর পেছনে গভীর আন্তর্জাতিক রাজনীতির ছায়া দেখছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপের কড়া সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প, যা নিয়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, মেলোনির সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং ইতালিকে তুষ্ট করতেই ফুটবলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার এই চতুর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।
এই প্রস্তাবটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করলেও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে খেলাধুলাকে রাখার পক্ষপাতী। তিনি সম্প্রতি ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে সাফ জানিয়েছেন, "ইরান দল অবশ্যই আসছে। তারা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই এখানে জায়গা করে নিয়েছে।"
এদিকে ইরান ফুটবল ফেডারেশনও এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রোমে অবস্থিত ইরান দূতাবাস এক বার্তায় একে যুক্তরাষ্ট্রের 'নৈতিক দেউলিয়াত্ব' হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, ইতালিকে মাঠে খেলেই সম্মান অর্জন করতে হবে, রাজনৈতিক করুণায় নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলা নিয়ে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ইরান আগে থেকেই তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে ফিফা এখন পর্যন্ত ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। শেষ পর্যন্ত রাজনীতির এই জটিল চাল ফুটবলের মাঠ পর্যন্ত পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় ফুটবল বিশ্ব।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...