বিজ্ঞাপন
সোমবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদের সামনে থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল মোড়ে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, রাজপথের ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তার ব্যক্তিগত অনুসারীদের দিয়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করেছেন। এতে প্রকৃত আদর্শিক কর্মীরা চরমভাবে বঞ্চিত হয়েছেন। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত করা না হলে নোয়াখালীতে হরতালসহ আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
সমাবেশে নোয়াখালী পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম বলেন, অযোগ্যদের পদ দিয়ে সংগঠনকে দুর্বল করা হয়েছে। সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ চৌধুরী বাবু অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের ইতিহাসে এমন বিতর্কিত ও একপেশে কমিটি এর আগে কখনও হয়নি। ছাত্রদল নেতারা আরও দাবি করেন, নাছির উদ্দীন আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হয়ে বর্তমানে দলকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ বিষয়ে তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে পকেট কমিটির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল। তিনি জানান, সবাইকে একসাথে পদ দেওয়া সম্ভব নয়, তবে কমিটি গঠনে সাংগঠনিক যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি নিজের রাজনৈতিক ত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাহেদ চৌধুরী বাবু, তারেক নূর, ইয়াসিন আরাফাত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেনসহ ১০ জন শীর্ষ নেতা একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
এ সময় নোয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ সজীব, সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা আনোয়ার হোসেন রকি, নোয়াখালী কলেজের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...