Logo Logo

গোপালগঞ্জে প্রেমিককে ডেকে এনে আটকে রাখার অভিযোগ, উদ্ধার করল পুলিশ


Splash Image

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় এক গৃহবধূর ডাকে দেখা করতে এসে মারধরের শিকার হয়েছেন তাঁর প্রেমিক ও তাঁর দুই বন্ধু। শুধু মারধরই নয়, তাঁদের একটি মাদ্রাসার কক্ষে আটকে রাখারও অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তী সময়ে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবরুদ্ধ তিন যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।


বিজ্ঞাপন


গতকাল শুক্রবার (২৯ মে) সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতী এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আহত ও ভুক্তভোগী যুবকদের পরিচয় জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত গৃহবধূর প্রেমিক তরিকুল ইসলাম শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পালেরচর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। তাঁর অন্য দুই সঙ্গী হলেন শাহীন শেখ ও অপু কুণ্ডু।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বর্তমানে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতী গ্রামে বসবাস করছেন। ওই গৃহবধূর সঙ্গে শরীয়তপুরের যুবক তরিকুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আজ ঈদের দিন সকালে ফাতেমা বেগম ফোন করে তরিকুল ইসলামকে তাঁর স্বামীর বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। প্রেমিকার এমন আহ্বানে সাড়া দিয়ে সকাল আনুমানিক সাতটার দিকে তরিকুল তাঁর দুই বন্ধু শাহীন ও অপুকে সঙ্গে নিয়ে মাঝিগাতী এলাকায় ফাতেমার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং সেখানে পৌঁছান।

যুবকেরা ফাতেমার বাড়িতে পৌঁছালে ফাতেমার স্বামী রশীদ ইব্রাহিম ও তাঁর সহযোগীরা আচমকা তাঁদের ওপর চড়াও হন। তাঁরা তিন যুবককে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং একপর্যায়ে নিকটস্থ ভবানীপুর মাদ্রাসার একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখেন।

ঘটনাটি দ্রুতই স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে জানাজানি হয়ে পড়ে এবং চারদিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে পুলিশ সদস্যরা মাদ্রাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে ওই তিন যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে আসেন।

ভুক্তভোগী যুবক তরিকুল ইসলাম ঘটনার বিবরণ দিয়ে দাবি করেন, ফাতেমার সঙ্গে তাঁর বিগত চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। আজ সকালে ফাতেমা নিজেই তাঁকে ফোন করে চলে আসার অনুরোধ জানান। সেই অনুরোধে বন্ধুদের সাথে নিয়ে তিনি ফাতেমাকে নিতে এলে ফাতেমার স্বামী ও তাঁর লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং মাদ্রাসায় আটকে রাখে।

অনুরূপ বক্তব্য পাওয়া গেছে অভিযুক্ত গৃহবধূ ফাতেমা বেগমের কাছ থেকেও। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তিনিই তরিকুলকে আসার জন্য বলেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর স্বামী ও তাঁর সাথে থাকা লোকজন তরিকুল ও তাঁর বন্ধুদের মারধর করে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রেখেছিল।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে আটকে রাখা তিন ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। পুরো ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...