Logo Logo

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি আর্সেনাল-পিএসজি, আর্তেতার হাত ধরে কি ইতিহাস গড়বে গানার্সরা?


Splash Image

ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল মঞ্চে আর্সেনালের ফিরে আসার দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথটি আজ শনিবার এক চূড়ান্ত রূপ নিতে যাচ্ছে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাজকীয় ফাইনালে আজ ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) মুখোমুখি হচ্ছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল। প্রথমবার ইউরোপের এই শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জিতে মিকেল আর্তেতার হাত ধরে গড়া ক্লাবের নবজাগরণকে পূর্ণতা দিতে মুখিয়ে আছে লন্ডনের ক্লাবটি। আজ শনিবার (৩০ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় হাইভোল্টেজ এই ফাইনাল ম্যাচটি ‘সনি স্পোর্টস ২’ চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।


বিজ্ঞাপন


লন্ডনের এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি গত সপ্তাহেই পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিকে পেছনে ফেলে দীর্ঘ ২২ বছর পর তাদের প্রথম ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছে। এই ট্রফি জয়ের মাধ্যমে অবশেষে কোচ আর্তেতার কাঁধে চেপে থাকা ‘তীরে এসে তরী ডোবা দলের’ তকমাটি ঝেড়ে ফেলতে পেরেছে গানার্সরা।

লিগ শিরোপা খরা কাটানোর পর আর্সেনালের ওপর থেকে এখন সব অস্বস্তিকর চাপ কেটে গেছে। তারা এখন একটি ‘বোনাস’ ট্রফির খোঁজে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে নামবে, যা আর্সেন ওয়েঙ্গারের ২০০৩-০৪ মৌসুমের কিংবদন্তিতুল্য ‘অজেয়’ দলের কীর্তিকেও ছাড়িয়ে যাবে।

বুদাপেস্টের ফাইনালে লুইস এনরিকের দুর্দান্ত পিএসজি দলের বিপক্ষে আজ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্সেনাল। পিএসজি দলটি নজরকাড়া আক্রমণাত্মক শৈলী, বুদ্ধিমত্তা ও কঠোর পরিশ্রমের এক বিরল মিশ্রণ।

২০০৬ সালে নিজেদের একমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের বার্সেলোনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার মতোই এবারও আর্সেনাল সামান্য পিছিয়ে থেকে ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে ম্যাচ শুরু করবে। তবে বড় মঞ্চে আর্তেতার কৌশলের পারফর্ম করার ক্ষমতা নিয়ে কারও মনে কোনো সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই।

রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা এবং সেট পিসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে আর্সেনালের খেলার ধরন অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে। তবে সাবেক কোচ জর্জ গ্রাহামের আমলের সেই পুরোনো স্লোগান ‘১-০ টু দ্য আর্সেনাল’ এখন আবার সমর্থকেরা গর্ব নিয়ে গাইছেন। প্রিমিয়ার লিগে এই ১-০ স্কোরে আটটি জয় এসেছে, যেখানে আর্সেনাল ১৯টি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও তারা প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ ৯টি ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ রেখেছে এবং ১৪টি অপরাজিত ম্যাচে মাত্র ৬টি গোল খেয়েছে।

পিএসজি যখন ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দিচ্ছে, তখন আর্সেনাল তাদের ডিফেন্সিভ ও বাস্তবমুখী খেলার কারণে সমালোচিত হলেও সমালোচকদের কথায় পাত্তা দিচ্ছে না। শনিবারের ফাইনালেও তাদের এই অভেদ্য ফর্মুলায় কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

ফাইনালের দিকে তাকিয়ে সাবেক আর্সেনাল মিডফিল্ডার পল মার্সন বলেন, “প্রথম গোলটিই আজ মূল চাবিকাঠি হতে যাচ্ছে। পিএসজি আর্সেনালের কাছে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া নিয়ে চরম চিন্তিত থাকবে, কারণ তারা জানে যে তখন আর্সেনালের রক্ষণ ভাঙা কতটা কঠিন হয়ে উঠবে—তাই তারা প্রথম গোলটি হজম করতে ভয় পাবে।”

২০০৬ সালের ফাইনাল হারের তিন বছর পর আর্সেনাল সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এরপর ইউরোপের অভিজাতদের মাঝে তারা যেন কেবল সংখ্যা বাড়ানোর জন্যই খেলছিল। টানা সাতবার শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেওয়ার পর পরবর্তী পাঁচ মৌসুমে তারা এই প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জন করতেই ব্যর্থ হয়। আর্তেতা ২০১৯ সালে ম্যানেজার হিসেবে ফিরে আসার পরও ইউরোপে নিজেদের পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে কিছুটা সময় লেগেছিল। কিন্তু তারপর থেকে তাদের অগ্রগতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

গত মৌসুমে সেমিফাইনালে লুইস এনরিকের এই পিএসজির কাছেই দুটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের লেগে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল আর্সেনালকে। স্প্যানিশ কোচ আর্তেতা এক বছর আগের সেই তিক্ত পরাজয়ের পর গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছিলেন যে, সেই হার তাঁর দলকে ইউরোপ জয় করার জন্য আরও বেশি ক্ষুধার্ত করে তুলবে। আজ বুদাপেস্টের মাঠে আর্তেতার সামনে সুযোগ এসেছে সেই হারের মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার এবং ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণযুগ লেখার।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...