বিজ্ঞাপন
নিহত রাকিব শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিব হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় কিছু লোকজন রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সন্দেহভাজন হামলাকারীদের পাঁচটি ঘরে হামলা চালায়। এ সময় ঘরবাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। দুপুর ১২টার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবের বাবা ও এক ভাই প্রবাসে থাকেন। তিনি ঢাকা ও নোয়াখালীর বিভিন্ন শপিংমলে চাকরি করতেন। কয়েক দিন আগে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের কথাকাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শনিবার রাতে পাকমুন্সিরহাট বাজারে বিষয়টির নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষের লোকজন একত্রিত হয়। এ সময় স্থানীয়রা রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে পরামর্শ দেন। পরে তিনি ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে পাকমুন্সিরহাট বাজার সংলগ্ন একটি অন্ধকার স্থানে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাদের পথরোধ করে হামলা চালায়। ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে রিমনও হামলার শিকার হয়ে আহত হন।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে রাকিবের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, “হত্যাকাণ্ডের জেরে পাঁচটি ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দুটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং আরও তিনটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাকিব হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...