Logo Logo

নোয়াখালীতে জমি বিরোধে বর্গাচাষীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ হামলা-অগ্নিসংযোগ, গর্ভবতী নারীসহ আহত ৬


Splash Image

নোয়াখালীর সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বর্গাচাষীর বসতবাড়িতে বর্বর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক গর্ভবতী নারী ও শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরের দিকে ভুক্তভোগী নাইমুর রহমান ওরফে মিতুল বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এর আগে গত রবিবার (৩১ মে) বিকেলে এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।

হামলায় গুরুতর আহত চারজনকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—বর্গাচাষী জাহাঙ্গীর আলম (৫৫), তাঁর গর্ভবতী কন্যা শারমিন আক্তার (২৭), জামাতা মো. রুবেল (২৯) এবং জমির মালিক তৈইমুর রহমান ওরফে মুকুল (৩৯)। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বর্গাচাষীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে জানান, রবিবার বিকেল চারটার দিকে সাবেক ইউপি সদস্য ছায়েদুল হক, আলমগীর হোসেন ও আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তিনটি বসতঘরে ভাঙচুর চালিয়ে টিনের বেড়া কেটে ফেলে এবং ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়।

তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা একটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয় এবং আরেকটি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত করে। চরম নৃশংসতার অংশ হিসেবে হামলার সময় ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা দুই বছরের এক শিশুকে তোষকসহ পাশের ডোবায় ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। একই সময় বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়।

জমির মালিক নাইমুর রহমান ওরফে মিতুল অভিযোগ করেন, এওজবালিয়া মৌজার দিয়ারা ৬৯ খতিয়ানের ৪৮৮৫ দাগ এবং হাল ২৪১৫ খতিয়ানের ৭৬০৪ ও ৭৬০৫ দাগের ভূমির বৈধ মালিক ও দখলদার তাঁরা। রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিজেদের জমিতে ভেকু (এক্সেভেটর) মেশিন দিয়ে আড়া কান্দি নির্মাণের কাজ করার সময় সাবেক ইউপি সদস্য ছায়েদুল হকের নেতৃত্বে কামাল উদ্দিন, পারভেজ আলম, আলমগীর, সোলেমান, সবুজ মিয়া ও লিটনসহ ৩৫ থেকে ৪০ জনের একটি দল সেখানে হামলা চালায়।

তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা বসতঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি খামার থেকে ৩টি গরু, ১৬ বস্তা সয়াবিনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সেভেটরটিতেও আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ভুক্তভোগীদের একাংশের দাবি, হামলাকারীরা সাবেক ইউপি সদস্যসহ বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মী। তবে মামলার এজাহারকারীর অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ সমর্থক।

এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি সদস্য ছায়েদুল হক বলেন, “সংশ্লিষ্ট জমিতে মিতুলদের কোনো মালিকানা নেই। জমি বিক্রি করে দেওয়ার পরও তারা অবৈধভাবে মালিকানা দাবি করছে। উল্টো তারাই প্রতিপক্ষের বাড়ি ও লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে।”

সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রী রাম চন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...