বিজ্ঞাপন
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট নির্বাচন কমিশনের অধীনে স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত ব্যালটের মাধ্যমে জেলা, বিভাগ, ক্লাব এবং সংস্থার কাউন্সিলরদের ভোটে বিসিবি পরিচালক ও সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার নিয়ম। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত এই নির্বাচনে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এডহক বা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বোর্ডের সাবেক বেশ কয়েকজন সিনিয়র পরিচালক অভিযোগ করে বলেন, “যেখানে তামিম ইকবাল নিজে একজন সক্রিয় খেলোয়াড় বা সদ্য সাবেক এবং ক্রিকেট বোর্ডের অংশ, সেখানে তাঁর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে ও একক পছন্দে নির্বাচন আয়োজন করা আইসিসির স্বাধীন শাসন ব্যবস্থার নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই পকেট নির্বাচনের মাধ্যমে বোর্ডের স্বায়ত্তশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।”
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় অঞ্চলের অনেক যোগ্য ও অভিজ্ঞ ক্রীড়া সংগঠককে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কাউন্সিলরশিপ বণ্টন এবং ভোটার তালিকা (ভোটার রুল) তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্রিকেট বোর্ডের এক সাবেক কাউন্সিলর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তামিম ইকবালের অধীনে হওয়া এই নির্বাচন ছিল লোকদেখানো। আগে থেকেই নির্দিষ্ট কিছু পছন্দের ব্যক্তির নাম চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছিল। কৌশলে বিরোধীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরিতে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বা পাতানো ভোটের মাধ্যমে জয়ী হয়েছেন।”
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বিসিবির এই বিতর্কিত নির্বাচন এবং বোর্ডে তৃতীয় পক্ষের বা বিশেষ মহলের হস্তক্ষেপের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডে যদি সরকারি বা রাজনৈতিক বা কোনো অসচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে সেই দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেমে আসার নজির রয়েছে (যেমনটি অতীতে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের ক্ষেত্রে ঘটেছিল)। তামিম ইকবালের এই অতি-উৎসাহী নির্বাচন বিসিবিকে আইসিসির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল কি না, তা নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...