বিজ্ঞাপন
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় ইউনুছ আলীর পরামর্শে অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম তিনজন নির্মাণশ্রমিক দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিকরা দাবি করেন, আদালত তাদের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তবে এ সংক্রান্ত কোনো আদেশের কপি দেখাতে পারেননি তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানদিয়া এলাকার শেখ খোরশেদ আলী (পিতা: মৃত ময়জুদ্দিন মোড়ল) তার নিজ জমির সংলগ্ন সরকারি রাস্তার জায়গায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ এনে ভূমি অফিসে লিখিত আবেদন করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার গাইন তদন্ত করে ধানদিয়া এলাকার মো. জহুরুল ইসলাম (পিতা: ইছাহক আলী মোড়ল) ও মো. ইউনুছ আলীকে (পিতা: তোফাজ্জেল হোসেন) অভিযুক্ত করে জরুরি নোটিশ জারি করেন। নোটিশে চলমান নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ রাখা এবং নির্মিত অবকাঠামো নিজ খরচে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তারা ওই নির্দেশনা অমান্য করে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন।
নোটিশে উল্লেখিত তফসিল অনুযায়ী, বিতর্কিত সম্পত্তিটি ধানদিয়া মৌজার (জে.এল. নং-১১৭) আর.এস. ১ নম্বর খতিয়ানের আর.এস. ১৬১২ নম্বর দাগের (১৫৩৭ দাগ সংলগ্ন) ০.০৫ একর সরকারি রাস্তার জমি।
এদিকে একই বিষয়কে কেন্দ্র করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারায় একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। মামলা নম্বর পি-৪৫৩/২৬ (কলা)। মামলায় সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আগামী ২৩ জুন ধার্য তারিখ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট স্থানে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগকারীদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে স্থানীয় ইউনুছ আলীর পরামর্শে জহুরুল ইসলাম গত দুই দিন ধরে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ওসিকে অবহিত করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি বলেন, “আমি তো থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়েছি। আর কতবার পাঠাবো?”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউনুছ আলী বলেন, “ম্যাপ করার সময় ভুলবশত রাস্তা আমাদের জমির মধ্যে ঢুকে গেছে।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে সরকারি রাস্তার প্রস্থ ১৪ ফুট থাকতে হবে। কিন্তু নির্মাণাধীন ঘরের ভিত্তি নির্মাণের ফলে রাস্তার নির্ধারিত প্রস্থ বজায় থাকছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সুস্পষ্ট উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গান্তরে কথা বলেন।
এ বিষয়ে জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রওশন আলী গাজী বলেন, “সরকারি রাস্তার ওপর ঘর নির্মাণ না করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে ইউনুছ ও জহুরুলকে একাধিকবার নিষেধ করেছি। কিন্তু তারা কোনো আইন-কানুন মানতে চায় না। নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করে যাচ্ছে। লোকবল থাকার কারণে তারা কাউকেই তোয়াক্কা করে না।”
তিনি আরও বলেন, “এ রাস্তা নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। তারা সালিশে অংশ নেয়, কিন্তু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো গুরুত্ব দেয় না।”
এদিকে কলারোয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য গত দুই দিনে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি রাস্তার জমি দখল ও আদালতের নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে জনস্বার্থে রাস্তার স্বাভাবিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...