Logo Logo

বগুড়ায় লিফট দেওয়ার নামে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে যুবক, ল্যাপটপ-মোবাইলসহ সর্বস্ব লুট


Splash Image

প্রতীকী এই ছবিটি কৃত্রিম মেধা দ্বারা নির্মিত।

বগুড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে লিফট দেওয়ার বাহানায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন আফ্রিদি হোসেন (২৫) নামে এক যুবক। প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাকে চেতনানাশক খাইয়ে অজ্ঞান করে একটি দামী ল্যাপটপ, ভিভো এক্স-২০০ মডেলের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।


বিজ্ঞাপন


গত ৩ জুন (বুধবার) দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুর ও শেরপুর থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আফ্রিদি হোসেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের দহপাড়া গ্রামের আকরাম হোসেনের ছেলে। তিনি সুস্থ হয়ে শেরপুর থানায় অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে আফ্রিদি হোসেন বগুড়ার শাজাহানপুর থানার বনানী বাসস্ট্যান্ড থেকে সিরাজগঞ্জে তার শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় এক অজ্ঞাতনামা মোটরসাইকেল আরোহী তাকে লিফট দেওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি তার মোটরসাইকেলে ওঠেন। পরে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে শেরপুর থানার অন্তর্গত নরিমিক্স ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলটি থামে।

এরপর মোটরসাইকেল চালক তাকে পেট্রোল পাম্প থেকে কিছুটা দূরে শাজাহানপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সামনে রাস্তার পূর্বপাশে অবস্থিত ‘আনাস ভ্যারাইটি স্টোর’ নামের একটি মুদি দোকানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা আরেক অজ্ঞাত ব্যক্তি ও মোটরসাইকেল চালক মিলে তাকে পানি পান করতে অনুরোধ করে। আফ্রিদি প্রথমে অস্বীকৃতি জানালেও তারা জোরপূর্বক তাকে খেজুর ও লিচু খাওয়ায় এবং পানি পান করায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

ভুক্তভোগী অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর প্রতারক চক্রটি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে শুরু করে। বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে আফ্রিদির বাবাকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে ধুনট মোড়ে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। স্বজনরা সেখানে পৌঁছে পুনরায় যোগাযোগ করলে চক্রটি অবস্থান পরিবর্তন করে মির্জাপুর বাসস্ট্যান্ডের কথা জানায়।

দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর রাত ১১টার দিকে মির্জাপুর ইউনিয়নের ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর একটি কক্ষ থেকে আফ্রিদিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন তার বন্ধু মেহেদী মারুফ।

পরে তাকে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধীন মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্ঞান ফিরে তিনি জানতে পারেন, তার সঙ্গে থাকা একটি লেনোভো ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ, একটি ভিভো এক্স-২০০ স্মার্টফোন এবং ব্যাগে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়ে গেছে।

চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে শেরপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের লক্ষ্যে তদন্ত চলছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...