Logo Logo

ফরিদপুরে আলোচিত মা–মেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন, পুলিশ টিমকে পুরস্কার


Splash Image

ফরিদপুরের চর মাধবদিয়ার কালিতলা এলাকায় মা ও পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশুর নির্মম হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে পুরো জেলায় যে চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি উদঘাটিত হয়েছে। পুকুরপাড়ের মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর শুরু হওয়া এই রহস্যজনক ঘটনার তদন্তে সফলতা অর্জন করেছে ফরিদপুর জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম।


বিজ্ঞাপন


সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই তদন্ত কার্যক্রমে প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য রহস্য উন্মোচন করা হয়। পুলিশের নিরলস তদন্তে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসে হত্যার মূল কারণ ও জড়িত ব্যক্তির পরিচয়।

তদন্তে জানা যায়, নিহত জাহানারা বেগম ঢাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় উজ্জ্বল খান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রেমের সম্পর্কের সুযোগে তাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে জাহানারা বেগম ও তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

ঘটনার ধারাবাহিক তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে প্রধান অভিযুক্ত উজ্জ্বল খানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল, ধারালো অস্ত্র, মোবাইল ফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়।

এই সফল অভিযানের স্বীকৃতি হিসেবে মঙ্গলবার (৯ জুন) ফরিদপুর জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেনের নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী টিমকে পুরস্কৃত করেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সাফল্য শুধু একটি জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন নয়; বরং এটি ফরিদপুর পুলিশের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা এবং অপরাধ দমনে দৃঢ় অঙ্গীকারের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তদন্ত টিমের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের মাধ্যমেই শেষ পর্যন্ত কালিতলার এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...