বিজ্ঞাপন
গত মঙ্গলবার (৯ জুন) এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতেই ভুক্তভোগী দিনমজুর জাহাঙ্গীর আলম (৪৪) বাদী হয়ে নীলফামারী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলমের আপন ভাই জাহিদুল ইসলাম (সাদ্দাম), সাইদুল ইসলাম এবং ভাতিজা সবুর ও মাহাফুজ ইসলাম দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী নাজমা বেগম (৩২) ও তার মেয়ে জান্নাতি আক্তার জুঁইয়ের ওপর হামলা চালায়। হামলায় নাজমা বেগমের মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং তার শিশু কন্যাকে হেনস্তা ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুজ্জামান রাঙ্গার সহযোগিতায় আহত মা ও মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু জান্নাতি আক্তার জুঁই জানায়, হামলাকারীরা তার বাবাকে বাড়িতে না পেয়ে ধারালো দা দিয়ে মায়ের মাথায় কোপ মারে। সে জীবন বাঁচানোর তাগিদে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকেও লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে অজ্ঞান করে ফেলা হয়।
ঘটনার পর বুধবার (১০ জুন) সরেজমিনে বিবাদীদের বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। এমনকি পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের মুঠোফোন নম্বর না দেওয়ায় এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে এই নির্মম হামলার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, জাহাঙ্গীর আলম অত্যন্ত সহজ-সরল একজন দিনমজুর। তিনি একটা সময় নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে ছোট ভাইদের লেখাপড়া ও বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নিজের ভিটেমাটিতে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম সাদ্দাম বিদেশ থেকে ফিরে এসে অন্যায়ভাবে জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারকে সেই বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এরপর থেকেই জাহাঙ্গীর আলম পরিবার নিয়ে অত্যন্ত মানবিক জীবনযাপন করছেন। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান আব্দুল জানান, হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...