Logo Logo

সালথায় মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব ও হুমকির অভিযোগ


Splash Image

অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইন।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী বাজার সংলগ্ন জগজ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইনের বিরুদ্ধে এক মাদরাসাশিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব প্রদান ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


গত মঙ্গলবার (৯ জুন) এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে মাদরাসার সুপার ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। শিক্ষার্থী তার অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে নানাভাবে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমনকি চলমান দাখিল পরীক্ষায় তাকে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এই মানসিক নির্যাতন সহ্য করার পর অবশেষে সে বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানায়। পরবর্তীতে তার মা মাদরাসায় গিয়ে সুপারের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে সুপার তার সাথে আপত্তিকর আচরণ করেন এবং গালিগালাজ করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেন। এরপর মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দ্বারস্থ হলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে শিক্ষার্থী অভিযোগে উল্লেখ করেছে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মাদরাসা সুপার মো. ইব্রাহীম হোসাইন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আমি প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। তদন্তে যদি আমি দোষী প্রমাণিত হই, তবে আইন অনুযায়ী যে কোনো শাস্তি মেনে নেব। আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে যারা আমাকে হয়রানি করছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শিক্ষার্থীর মাকে গালিগালাজ করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে কোনো শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রশ্নই আসে না।

জগজ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কালাম পিকুল মোল্লা বলেন, সুপারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগের কথা শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এটিও নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনো নির্দোষ ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন না হয়।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন জানান, শিক্ষার্থী কর্তৃক দায়ের করা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...