বিজ্ঞাপন
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ১০টি জেলার ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন হওয়া হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সরকারি জেনারেল হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর হাসপাতাল, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, শেরপুর ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল, মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতাল এবং বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতাল।
গোপালগঞ্জে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিহাব ইনামসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উদ্বোধন শেষে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, “২০২০ সালে বরাদ্দ পাওয়া ভেন্টিলেটরগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার হয়নি। নিম্নমানের হওয়ায় অধিকাংশ ভেন্টিলেটর অকেজো হয়ে পড়েছে। গোপালগঞ্জে এতদিন আইসিইউ ও ভেন্টিলেশন সেবা চালু না থাকায় রোগীরা এ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস জানান, ২০২০ সালে আইসিইউ ইউনিটের জন্য সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়েছিল। বর্তমানে ১০টি ভেন্টিলেটরের মধ্যে মাত্র একটি সচল রয়েছে। কয়েকটি ভেন্টিলেটরে যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। তবে আইসিইউ বেড, মনিটরসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম কার্যকর রয়েছে। অকেজো ভেন্টিলেটরগুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আইসিইউ ইউনিট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবলেরও ঘাটতি রয়েছে। তবে জনবল বৃদ্ধি এবং যন্ত্রপাতি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মো. ফারুক বলেন, “দেশের ১০টি জেলায় একযোগে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করা হয়েছে। গোপালগঞ্জে ১০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত রয়েছে। ভেন্টিলেটরগুলোর কারিগরি সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেগুলো সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিট উদ্বোধনের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হলেও ভেন্টিলেটর সংকট ও জনবল ঘাটতির বিষয়টি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...