বিজ্ঞাপন
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রানের লড়াকু সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ফিফটিতে ভর করে এই বড় পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। তবে সেই সংগ্রহও যথেষ্ট হয়নি কনোলির দৃঢ় প্রতিরোধের সামনে। ৩ বল ও ১ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই বড় চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই ওপেনার সৌম্য সরকারকে হারানোর পর তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তা দীর্ঘ হয়নি। মাত্র ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা।
সেই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তোলেন অভিজ্ঞ লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। চতুর্থ উইকেটে এই দুজন গড়েন ৯২ রানের চমৎকার এক জুটি, যা ইনিংসের শক্ত ভিত গড়ে দেয়। ইনিংসের মাঝপথে চোট পেয়ে লিটন সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করেন। তিনি ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে হৃদয় খেলেন ৮৩ রানের এক অসাধারণ ইনিংস। শেষদিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত দ্রুতগতির ঝড়ো অর্ধশতক (অপরাজিত ৫৬ রান) তুলে নিলে বাংলাদেশ ২৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পায়।
২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম আক্রমণাত্মক ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের ওপর চড়াও হয়ে প্রথম ৪ ওভারেই ৩৮ রান তুলে নেয় সফরকারীরা। ঠিক তখনই আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিশ ও ম্যাট রেনশোকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন এই বাঁহাতি। এক ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অজিরা। পরে তাসকিন এসে ফর্মে থাকা অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরালে ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
তবে বাংলাদেশের সেই জয়ের আশা ধীরে ধীরে নিভিয়ে দেন ওপেনার কুপার কনোলি। মার্নাস লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। লাবুশেন ধীরগতিতে খেললেও কনোলি ছিলেন রুদ্রমূর্তি। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে মাত্র ৫১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এই তরুণ।
অর্ধশতকের পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন কনোলি। লাবুশেন আউট হলেও তিনি থামেননি। ক্যামেরন গ্রিনকে (২৭) সঙ্গে নিয়ে আবারও জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। একপর্যায়ে মাত্র ৮৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম চোখধাঁধানো সেঞ্চুরি তুলে নেন এই অজি ব্যাটার। এরপর ১৯ বছর বয়সী অলিভার পিকও খেলেন ২৭ রানের এক কার্যকর ইনিংস।
ম্যাচ যখন প্রায় অস্ট্রেলিয়ার মুঠোয়, তখন শেষ স্পেলে এসে একাই অবিশ্বাস্য লড়াই চালিয়ে যান শরিফুল ইসলাম। পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারের (৫ উইকেট) দেখা পান তিনি। এরপর আরও একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ৬ উইকেট শিকারের এক অনন্য কীর্তি গড়েন শরিফুল।
তবে শরিফুলের এই অবিস্মরণীয় বোলিংয়ের দিনে অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় ৪৯.৩ ওভারেই ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ইসলাম একাই নেন ৬ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট শিকার করেন। ম্যাচ হারলেও সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...