বিজ্ঞাপন
মামলা সূত্রে জানা যায়, সখিপুর থানার ছৈয়ালকান্দি গ্রামের ছয় বছর বয়সী শিশু তায়েবা আক্তার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর চাচি আয়েশা বেগমকে প্রধান আসামি করে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর আদালতের মাধ্যমে আয়েশা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ প্রায় নয় মাস কারাগারে থাকার পর গত ১৪ জুন হাইকোর্ট তাকে জামিন প্রদান করেন। জামিনের খবর প্রকাশের পর থেকেই সখিপুর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত তায়েবার বাবা-মা বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানকে হারিয়েছি। আদালতের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। তবে আমরা চাই মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হোক এবং প্রকৃত অপরাধীরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাক।”
এদিকে সখিপুর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক, যুবদল নেতা ও সমাজসেবক কামরুল ইসলাম রাজীব সরদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় প্রশ্ন তুলে বলেন, “কোন যুক্তিতে, কার কথায় তায়েবা হত্যা মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়া হয়েছিল? পুলিশের কাছে তদন্তভার থাকলে এতদিনে চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হতো এবং বিচার কার্যক্রমও অনেক দূর এগিয়ে যেত। তায়েবা হত্যা মামলার আসামি আয়েশার জামিন পাওয়া সখিপুরবাসীর জন্য হতাশাজনক।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, তায়েবা হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সখিপুরে একাধিক মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠন হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার রয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, শিশু তায়েবা হত্যা মামলাটি শুধু একটি পরিবারের নয়; এটি পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া একটি ঘটনা। তাই মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের দাবি, মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। তদন্তের ধীরগতির কারণেই প্রধান আসামি আয়েশা বেগম জামিন পেয়েছেন বলে তারা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, তায়েবা হত্যা মামলাটি ঘটনার পর থেকেই দেশব্যাপী আলোচিত হয়ে ওঠে। মামলার অগ্রগতি, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমের দিকে এখনও গভীর নজর রাখছেন স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং নিহত শিশুটির পরিবারের সদস্যরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...