বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন নিহতের মা পারভীন বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পারভীন বেগম বলেন, তার মেঝ ছেলে হাসান সরদার স্থানীয় মিন্টু ও কুদ্দুসদের সাথে চলাফেরা করতো। কিছুদিন আগে তাদের মধ্যেকার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। এর জেরে গত ৭ জুন বিকেল থেকে এশার নামাজ পর্যন্ত দফায় দফায় নৃশংস নির্যাতন চালিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে ছিল এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজ হিসেবে পরিচিত মিন্টু এবং কুদ্দুস গাজী। বিগত হাসিনা সরকারের পতনের সময় বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করে তারা বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে।
নিহতের মায়ের অভিযোগ, মিন্টু বাহিনী হাসানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং নিহতের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও হাসানের মতো পরিণতি করার অনবরত হুমকি দিচ্ছে। এর মধ্যেই ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে গত ১৪ জুন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিন্টুর ভাই মো. মিলন ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদখালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ সরদারকে ১ নম্বর আসামি করে ১১ জনের নামে পাইকগাছা থানায় একটি পাল্টা মামলা দায়ের করেছে।
এর পাশাপাশি হত্যা মামলার অপর আসামি কুদ্দুসের স্ত্রী পারভীন বেগম বাদী হয়ে নিহতের চাচাতো ভাই রুবেলকে ১ নম্বর আসামি করে স্বজনদের বিরুদ্ধে ঘরে অগ্নিসংযোগ ও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগে আরও একটি কাউন্টার মামলা করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সংবাদ সম্মেলনে হাসানের ওপর চালানো বর্বরোচিত নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে তার মা বলেন, হাসানকে হাতুড়ি, লাঠি ও রড দিয়ে প্রকাশ্য দফায় দফায় আঘাত করা হয়েছে। সে বারবার বেহুঁশ হয়ে পড়লেও কাউকে উদ্ধার করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি কেউ মোবাইল ফোনে এই নৃশংসতার ছবি তুলতে গেলে তার ফোন ভেঙে ফেলা হয়েছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে হাসানের মাথার পেছনে মগজ বেরিয়ে যায়, কপাল ও চোয়ালের দুপাশে পেরেক ফুটিয়ে দেওয়া হয়, হাত ভেঙে দেওয়া হয় এবং পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। এছাড়া সিগারেটের আগুন দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে একটি নসিমনে পশুর মতো বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নেওয়ার সময়ও হাসান জীবিত ছিল। কিন্তু আলামত দেখে স্থানীয় লোকজনের ধারণা, শেষ পর্যন্ত তার গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস আটকে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পারভীন বেগম এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে পাল্টা দাবি করে মিলন ইসলাম বলেন, নিহত হাসান একজন মাদকসেবী ছিল। সেই কারণে ক্ষুব্ধ জনগণ তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে। এছাড়া হাসানের মৃত্যুর পর নিহতের পরিবারের লোকজন তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...