বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপ ফুটবলের সুদীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশ এখন পর্যন্ত নিজেদের শিরোপা ধরে রাখতে পেরেছে। ১৯৩৮ সালে ইতালির পর সর্বশেষ ১৯৬২ সালে পেলের ব্রাজিল এই ব্যাক-টু-ব্যাক কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ৬৪ বছরে আর কোনো দল টানা দুই আসরে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। ফলে এবারের মহাযজ্ঞে আলবিসেলেস্তেদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইতিহাসের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রেকর্ড বই নতুন করে লেখা।
আর্জেন্টিনা দলের মূল শক্তি ও অনুপ্রেরণা হিসেবে বরাবরের মতোই থাকছেন তাদের মহাতারকা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকরের জন্য এটিই হতে যাচ্ছে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে নিজের আজীবনের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করলেও, এবার আরেকটি শিরোপা জিতে রাজকীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে বিদায় নেওয়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য তাঁর।
বিশ্বকাপ জয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনির বিশ্বস্ত ও মূল স্কোয়াডে এবার বড় কোনো রদবদল আসেনি। গোলপোস্টের নিচে বিশ্বস্ত দেয়াল এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রক্ষণভাগের বিগ বস ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, মাঝমাঠের ক্রিয়েটর এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং আক্রমণভাগে লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজদের নিয়ে গড়া এই দলটি এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে লাতিন আমেরিকার টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছে আর্জেন্টিনা। ফলে দলগত রসায়ন এবং আত্মবিশ্বাসের দিক থেকেও বাকিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার এই পরাশক্তি।
আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যখন উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই সমালোচকরা একটি খটকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে আর্জেন্টিনা তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বেশি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। ফলে নকআউট পর্বে গিয়ে যদি ফ্রান্স, ব্রাজিল বা স্পেনের মতো ইউরোপ-লাতিনের শক্তিশালী দলগুলোর মুখোমুখি হতে হয়, তবে স্কালোনির দল কতটা প্রতিরোধ গড়তে প্রস্তুত থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এর পাশাপাশি বিশ্বকাপের মাঝেই আর্জেন্টাইন তারকাদের ঘিরে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের দলবদলের জোর গুঞ্জন চলছে। হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ভবিষ্যৎ নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা বা ম্যানচেস্টার সিটির মতো বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহ এখন টক অব দ্য টাউন। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালীন এই গুঞ্জন খেলোয়াড়দের মনোযোগে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না বলেই বিশ্বাস টিম ম্যানেজমেন্টের।
সব মিলিয়ে বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখা, অধিনায়ক মেসির বিদায়ী বিশ্বকাপ স্মরণীয় করা এবং ৬৪ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়া—এই ত্রিমুখী লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযানে নামছে আর্জেন্টিনা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...