Logo Logo

ঝুপড়ি ঘরে এসি-সিসি ক্যামেরার রাজকীয় মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন


Splash Image

নোয়াখালীর চাটখিলে সরকারি খাস জায়গা দখল করে ঝুপড়ি ঘরের আড়ালে গড়ে ওঠা এসি ও সিসিটিভি নিয়ন্ত্রিত এক বিলাসবহুল মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আস্তানা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের নানা অভিযোগের পর অবশেষে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে ওই অবৈধ স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদে পল্লীতে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নির্মিত ওই বিলাসবহুল আস্তানাটি বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, বেদে পল্লীর সাধারণ ঝুপড়ি ঘরের আবরণে ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫) নামে এক নারী দীর্ঘদিন ধরে এই বিলাসবহুল আস্তানাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে জমজমাট মাদক ব্যবসার পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত। দিন-রাত বহিরাগতদের আনাগোনায় এলাকার সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং স্থানীয় যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছিল। এই নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

এর আগে গত রোববার বিকেলে চাটখিল থানা পুলিশ প্রথম দফায় ওই আস্তানায় অভিযান চালায়। সেই অভিযানে আস্তানা থেকে একটি এসির রিমোট, নজরদারির কাজে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মাদক ও মাদক সেবনের বিভিন্ন অনুষঙ্গ ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সাতটি মাদক মামলার আসামি ও এই চক্রের মূলহোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া কৌশলে পালিয়ে যান। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে সুমাইয়ার মেয়ে ও ভাগ্নিকে আটক করে পুলিশ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে ওই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়া বর্তমানে একই স্থানের ওপর দিয়ে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারলেন সড়ক নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে। অবৈধ দখলদারিত্ব উচ্ছেদ, মাদক ব্যবসা বন্ধ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসন এই চূড়ান্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে।

প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারা। তারা ববিতা আক্তার সুমাইয়াসহ এই অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না। চারলেন সড়কের চলমান উন্নয়নকাজ নির্বিঘ্ন করতে এবং এলাকাকে সব ধরনের সামাজিক অপরাধমুক্ত রাখতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অবস্থান ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...