বিজ্ঞাপন
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে লিওনেল মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের পূর্ণতা পেয়েছিলেন। তবে ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সেও যে তাঁর ধার কমেনি, তা এবারের আসরের প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করলেন এলএমটেন। কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতে মেসি যেন খুলে বসেছিলেন তাঁর চেনা জাদুর বাক্স। উপহার দিয়েছেন এক স্মরণীয় ও চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিক। এই তিন গোলের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডধারী জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে স্পর্শ করলেন। সংখ্যা দিয়ে হয়তো মেসির প্রতিভাকে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়, তবে এই রেকর্ডগুলোই বলে দেয় কেন তিনি ফুটবলের চিরন্তন জাদুকর।
প্রথম রাউন্ড শেষে কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ড দুজনেই দুটি করে গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছেন। তবে সবাইকে ছাপিয়ে শীর্ষে আছেন ৩ গোল করা মেসি। অন্যদিকে, হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগালের প্রথম ম্যাচে সবার চোখ ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ওপর। নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকা পুরো ম্যাচেই ছিলেন ছায়া হয়ে। পর্তুগাল ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র করে। পুরো ৯০ মিনিটে রোনালদো মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করতে পেরেছেন, যা বড় টুর্নামেন্টে পুরো ম্যাচ খেলে তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বনিম্ন স্পর্শের রেকর্ড। ক্যারিয়ারের ১,০০০ গোলের মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সিআরসেভেন এখন বড় টুর্নামেন্টে টানা ১০ ম্যাচে গোলহীন!
প্রথম রাউন্ডের অন্যতম আবেগী ও স্মরণীয় দৃশ্য ছিল স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার পর কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার সতীর্থদের বুকে মাথা রেখে কেঁদে ফেলার মুহূর্তটি। মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে ইউরোপীয় জায়ান্ট স্পেনকে রুখে দেবে, তা আটলান্টার স্টেডিয়ামে বসা কোনো অতি-আশাবাদী ভক্তও ভাবেনি। কিন্তু ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার অতিমানবীয় দেয়ালের সামনে থমকে যায় স্পেনের ‘টিকি-টাকা’।
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে কেপ ভার্দে মূলত উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিনের মতো সমালোচকদের মুখের ওপর জবাব দিয়েছে, যারা দাবি করেছিলেন ৪৮ দলের এই বর্ধিত বিশ্বকাপে নাকি “একেবারেই অনাকর্ষণীয়” ম্যাচ হবে। ম্যাচ শেষে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়া তারকায় পরিণত হয়েছেন ভোজিনহা। ম্যাচের আগে তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ছিল ৫০ হাজার, যা এখন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছে এনএফএল বা এনবিএ তারকাদেরও ছাড়িয়ে গেছে!
উচ্চ মূল্যের টিকিটও যে ফুটবল উন্মাদনায় জল ঢালতে পারেনি, তার প্রমাণ মিলেছে লেভাইস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের ম্যাচে। ফিফা জানিয়েছে, মঙ্গলবার একদিনেই বিভিন্ন স্টেডিয়ামে মোট ২,৮১,২২৩ জন দর্শক খেলা দেখেছেন, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির নতুন বিশ্বরেকর্ড। এর আগে ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার মাঠগুলোতে ২,৭৭,০৭০ জন দর্শক উপস্থিতির রেকর্ডটি দীর্ঘ ৩২ বছর পর ভাঙল।
২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে মাত্র চারটি করে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। তবে এবারের উদ্বোধনী ম্যাচে সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে রেফারি উইলটন সামপাইও একাই ৩টি লাল কার্ড দেখালে মনে হয়েছিল কার্ডের বন্যা বয়ে যাবে। তবে ফিফার বিশেষ সতর্ক বার্তার পর রেফারিরা বেশ সংযত হয়েছেন। যার ফলস্বরূপ, উদ্বোধনী ম্যাচের পর পরবর্তী টানা ২৩টি ম্যাচে একজন খেলোয়াড়কেও মাঠ থেকে বহিষ্কার বা লাল কার্ড দেখতে হয়নি।
আজ থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচগুলো গ্রুপ পর্বের ভাগ্য নির্ধারণে আরও বেশি নাটকীয়তা ছড়াবে। জায়ান্টদের টিকে থাকার লড়াই আর আন্ডারডগদের রূপকথার গল্প কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...