বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, গোপালগঞ্জের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে খুব কাছ থেকে দেখেছি। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা ছিল যে, আওয়ামী লীগ বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটব্যাংকের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। অনেকেই মনে করতেন, অন্যদের মূল্যায়ন খুব একটা করা হয় না। হয়তো সবাই প্রকাশ্যে এসব কথা বলতেন না, কিন্তু আড়ালে-আবডালে এমন আলোচনা ছিল।
আরও বলেন নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের সমান গুরুত্ব ও মর্যাদা থাকা উচিত। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান সবাই এই দেশের নাগরিক, তাই সবাই সমান সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখে। আপত্তি প্রাধান্য দেওয়ায় নয়, আপত্তি তখনই তৈরি হয় যখন কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা আচরণে মনে হয়, যেন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীই সবকিছু আর অন্যদের গুরুত্ব নেই।
এমন বাস্তবতার মধ্যেই গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক শ্রী শুশান্ত ঘোষ স্বেচ্ছায় দলীয় পদ ও পদবি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতা ও পারিবারিক কারণ বিবেচনায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন না।
আজ দেখা যাচ্ছে, ঠাকুরবাড়ির নেতাদের থেকে শুরু করে গ্রামের অনেক নেতাকর্মীও এক দল থেকে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন। রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু বলে কিছু নেই এখানে স্বার্থ, পরিস্থিতি ও সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে যায়।
তাই যারা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ওপর অন্ধ বিশ্বাস স্থাপন করেন, তাদের জন্য এ ঘটনাগুলো একটি বার্তা বহন করে, দুনিয়ার বাস্তবতা হলো, মানুষ ও অবস্থান বদলায়। কিন্তু দেশ, জনগণ এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকা মূল্যবোধগুলোই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...