Logo Logo

উজানের ঢলে বিপদসীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি


Splash Image

ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হঠাৎ করেই তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নদীর দুই তীর উপচে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আকস্মিক বন্যায় ফসল ডুবে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন চরের শত শত কৃষক।


বিজ্ঞাপন


শনিবার (২১ জুন) সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট (গেট) সম্পূর্ণ খুলে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।

ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, উজানে ভারতের গজলডোবা ব্যারেজের ২০টি গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার ৫১ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে দুপুর ১২টায় ৫২.০০ মিটারে পৌঁছায়, যা বিপৎসীমা ৫২.১৫ মিটারের অত্যন্ত কাছাকাছি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণেই হঠাৎ এই পানি বৃদ্ধি। তবে চরাঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীতে পলি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন সামান্য পানি বাড়লেই আশপাশের ফসলি জমি দ্রুত ডুবে যায়।

চর গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন, চর ইসলির আমজাদ আলী ও চর রাজপুরের সুলাইমান আলী জানান, হঠাৎ পানি বাড়ায় তাদের বিঘার পর বিঘা জমির বাদাম ও শাকসবজি পানির নিচে চলে গেছে। এই পানি দ্রুত না নামলে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান ও ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, পানি বৃদ্ধির এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং রাতের দিকে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে। তবে তিস্তা ব্যারেজে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবকটি জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন লালমনিরহাট ও রংপুর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...