বিজ্ঞাপন
নিহত মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ প্রান্ত (৩০) মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকার মৃত এস্কেন্দার হায়দারের ছেলে এবং স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ শনিবার (২০ জুন) গভীর রাত ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ প্রান্তকে আটক করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটকের পর প্রান্তকে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার হাজতে রাখা হয়। সেখানে ভোরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আজ রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “আসামি আটক হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (স্ট্রোক) কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে কোনো ধরনের শারীরিক আঘাত করা হয়নি।” মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে প্রান্তর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতের পরিবারের স্পষ্ট দাবি, আটকের পর ডিবি পুলিশ হেফাজতে তার ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং সেই আঘাতেই প্রান্তর মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের চাচা ও মধুখালী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মির্জা আবু জাফর বলেন, “গত রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আমার ভাতিজা প্রান্তকে সুস্থ অবস্থায় আটক করে নিয়ে যায়। আজ সকালে হঠাৎ জানতে পারি, সে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার দাবি করছি।”
ডিবি হেফাজতে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটির ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে নিহতের পরিবার এবং বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...