বিজ্ঞাপন
নিহত পাঁচ বাংলাদেশিই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন— জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে প্রবাসীরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে তাদের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে আল শাহানিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি গুরুতর দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই পাঁচ বাংলাদেশি ও এক ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর কাতারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো উদ্ধার করে একটি হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক জানান, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং মরদেহগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি তাওহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই এলাকার পাঁচজন প্রবাসীর মৃত্যুতে পুরো কানাইঘাটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। স্থানীয় প্রবাসী সংগঠন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে স্বজনরা শেষবারের মতো তাদের দেখতে পারেন এবং যথাযথ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা যায়।
এদিকে কাতারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতার দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকার নিহতদের পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...