বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, কিশোরগঞ্জ প্রধান বাজারের রাস্তার সাথে ১৫ শতাংশ ও পুকুরের ২৫ শতাংশসহ মোট ৪০ শতাংশ জমি দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহীদ সোহরাওয়াদী গ্রেনেট বাবু। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটি সম্প্রতি তদন্ত কাজ করেছে। এ নিয়ে চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু রোববার দুপুরে চেয়ারম্যান কর্তৃক দখলকৃত জমির উপর একটি অনুসন্ধান রিপোর্ট করার জন্য যান।
দখলকৃত জমির কাছে গিয়ে তথ্য ও ভিডিও চিত্র নেয়ার সময় জমিগুলো চেয়ারম্যান গ্রেনেট বাবুর দখলে আছে বলে স্থানীয়রা এ রিপোর্টারকে জানান। গ্রেনেট বাবুর জমি দখলের তথ্য নেয়ার সময় চেয়ারম্যান গ্রেনেট বাবুর কিশোরগ্যাং ও গুন্ডা বাহিনীর সদস্যরা চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু, ক্যামেরাম্যান তাজুল ইসলামের উপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং এলোপাথারী ভাবে কিলঘুষি ও মারডাং করে। এতে সাংবাদিক অপু মুখে আঘাত পান। হামলাকারীরা এ সময় পিটু ক্যামেরা ও ট্রাইপড, লাইভ ডিভাইস মেশিন ক্যামেরাম্যান ও সাংবাদিকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদেরকে প্রাণে রক্ষা করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। এসময় কিশোরগ্যাং ও চেয়ারম্যানের গুন্ডাবাহিনীর সদস্যরা হুমকী দেন চেয়ারম্যানের দখলীয় জমি নিয়ে কোন রিপোর্টার তথ্য সংগ্রহ করতে আসলে তার পরিনাম ভালো হবে না। প্রয়োজনে মেরে হাত পা ভেঙ্গে দিয়ে লাশ গুম করে মাটিতে পুতে রাখাসহ মিথ্যা মামলার হুমকী দেয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে কিশোরগ্যাং ও গুন্ডা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল হতে দ্রুত সটকে পড়ে।
এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদশী মিনারুল ইসলাম বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের নামে একটি এজাহার দাখিল করেছেন।
খবরপেয়ে, প্রেসক্লাবসহ স্থানীয় সাংবাদিকগণ সেখানে ছুটে যান ও তাৎক্ষনিক হামলার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানান। নীলফামারী জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো সহ দোষীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একেএম তাজুল ইসলাম ডালিম বলেন, সাংবাদিকের উপর হামলা মেনে নেয়া হবে না। আমরা দোষীদের গ্রেফতারসহ শাস্তির দাবী করছি।
চ্যানেল ওয়ানের রিপোর্টার আবু সাঈদ অপু জানান, তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ শেষে ফেরার সময় চেয়ারম্যানের বাহিনী আমার উপর অর্তকিত হামলা চালায়। এসময় তারা ক্যামেরার লেন্স ভাংচুর, পিটু ক্যামেরা ও ট্রাইপড লাইভ ডিভাইস মেশিন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, সাংবাদিককে হামলার ঘটনায় এজাহার পেয়েছি। মামলা পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...