বিজ্ঞাপন
অভিযোগ রয়েছে, নিষিদ্ধ এই সংগঠনের কেউ কেউ ছাত্রদলে যোগ দিচ্ছেন, কেউ অন্য ছাত্রসংগঠনে যুক্ত হচ্ছেন, আবার কেউ নিজেকে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। পরিচয় লুকালেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সরকারবিরোধী পোস্ট, আওয়ামী লীগপন্থী বক্তব্য, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা এবং বিভিন্ন মহলকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সর্বশেষ গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন পোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিভিন্ন গলিতে তাদের গোপন বৈঠকের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। জুলাই আন্দোলনের সময় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল। এছাড়া জুলাই-পরবর্তী সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হামলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী শাহরিয়ার সানকে আটক করেছিল। কিন্তু সিকিউরিটি রুমের দরজা ভেঙে ছাত্রলীগের একটি দল তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ফলে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার সাহস পাচ্ছে এবং সুযোগ পেলেই সরকারবিরোধী ও আওয়ামী লীগপন্থী বক্তব্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, "নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান 'জিরো টলারেন্স'। তবে ক্যাম্পাসের ৫০ একরের ভেতরে কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারি। এর বাইরে কিছু ঘটলে আমাদের পক্ষে সব সময় তা জানা সম্ভব হয় না।"
তিনি আরও বলেন, "আমি নিজেও ফেসবুকে জুলাই আন্দোলনবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট দেখেছি। তবে কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না করলে আমাদের পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন। তারপরও আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু সমস্যা হলো, এসব সংস্থার অনেক কর্মকর্তা আগের সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তথ্য পেলেও তা আমাদের সময়মতো জানান না।"
প্রক্টর আরও উল্লেখ করেন, "আপনারা সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থীরাও আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন। আমি ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন—ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ইনকিলাব মঞ্চসহ সবার সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের বলেছি, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের যেকোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে সবাই যেন ঐক্যবদ্ধ থাকে।"
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...