ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন
পাকিস্তানের এই অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। গতকাল (বুধবার) মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, “আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি যে, আমরা ভারতের বিপক্ষে খেলব না। কারণ খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি হওয়া উচিত নয়। আমরা খুবই বিবেচনামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে থাকা উচিত। আমি মনে করি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট ছিল উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।”
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ড. আসিফ নজরুল লেখেন, “ধন্যবাদ পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, বাংলাদেশকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তার দেশ ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না—কারণ খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি মনে করি এটি খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।”
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হওয়ার কথা। আইসিসির পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্টের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে পাকিস্তান ইতোমধ্যে ম্যাচটি বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা আইসিসিকে জানিয়েছে। এর আগেও বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান। পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি আইসিসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সরব হন।
এদিকে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আইসিসি। ধারণা করা হচ্ছে, এই একটি ম্যাচ না হওয়ায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার লোকসান হতে পারে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে আইসিসি।
সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে শুধু পিসিবিই নয়, আইসিসিও আইনি জটিলতায় পড়তে পারে। সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চার বছরের যে চুক্তি করা হয়েছে, সেখানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। এই ম্যাচের কারণেই সম্প্রচার স্বত্বের অর্থমূল্য অনেক বেড়েছে। ম্যাচটি না হলে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে আইসিসির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ জানিয়ে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ। একইসঙ্গে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ স্থানান্তরের দাবি জানালেও বিসিবির সেই আহ্বান গ্রহণ করেনি আইসিসি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর পরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে আলোড়ন তুলে পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা আসে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...