প্রতীকী ছবি।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো বর্তমানে এক ‘অসম্ভব’ সিদ্ধান্তের দোলাচলে রয়েছে। হয় তাদের এই আগ্রাসনের মুখে নিষ্ক্রিয় থাকতে হবে, নতুবা পাল্টা আঘাত হেনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া কাতারে ১৬ জন, কুয়েতে ৩২ জন এবং ওমান ও বাহরাইনে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুবাইয়ের ল্যান্ডমার্ক ভবন ও বিমানবন্দর, মানামার বহুতল ভবন এবং কুয়েত বিমানবন্দরে মিসাইল বা ইন্টারসেপ্টর ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি আবু ধাবির অধ্যাপক মনিকা মার্কস এই পরিস্থিতিকে আমেরিকানদের কাছে মায়ামি বা সিয়াটলে হামলার মতোই অকল্পনীয় এবং বিস্ময়কর বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ইরান মূলত এই হামলার মাধ্যমে তার প্রতিবেশীদের জিম্মি করার কৌশল গ্রহণ করেছে।
কূটনৈতিকভাবে এই যুদ্ধ থামানোর জন্য ওমানসহ অন্যান্য দেশগুলো গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এক সময় শান্তি ‘হাতের নাগালে’ বলে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলা সেই সব প্রচেষ্টা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের লেকচারার রব জিস্ট পিনফোল্ডের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে চায় না। কারণ ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মেলানো তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বৈধতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নিজেদের জনগণের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা হয়তো শেষ পর্যন্ত ‘পেনিনসুলা শিল্ড ফোর্স’ বা নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একক বা যৌথভাবে লড়াইয়ে নামতে বাধ্য হতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো তাদের স্পর্শকাতর অবকাঠামো। মরু অঞ্চলের এই দেশগুলোর বিদ্যুৎ গ্রিড, পানি শোধন প্ল্যান্ট এবং জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে পুরো অঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। এর বাইরে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা তাদের পর্যটন ও বিনিয়োগবান্ধব ‘ব্র্যান্ড ইমেজ’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইরানের লক্ষ্যহীন মিসাইল নিক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও ভয়ংকর রূপ দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের প্রক্সি যুদ্ধের বদলে মধ্যপ্রাচ্যে এখন সরাসরি ‘রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র’ যুদ্ধের এক বিপজ্জনক যুগ শুরু হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এই অঞ্চলটি ধ্বংসের দিকে যাবে নাকি শান্তির কোনো নতুন পথ খুঁজে পাবে।
সূত্র: আল জাজিরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...