বিজ্ঞাপন
১৮৮৬ সালে ১ মে আমেরিকায় প্রথম পালিত হয়েছিল মে দিবস। সেদিন দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে পথে নেমেছিল শ্রমিকরা। জমায়েত করে অতিরিক্ত শ্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল তাঁরা। শ্রমিকদের জমায়েত ভাঙতে এলোপাথাড়ি বোমা, গুলি ছোড়েন পুলিশ। নিহত হয়েছিলেন বহু শ্রমিক।
সেই সমস্ত শ্রমিকদের আত্মত্যাগ স্মরণে রেখেই ১ মে দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়। এ ঘটনার তিন বছর পর ১৮৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের ১০০ বছর পূর্তিতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেস গঠিত হয়। সেখানেই ১৮৯০ সাল থেকে শিকাগো শ্রমিক আন্দোলনের দিনটিকে বার্ষিক দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। যদিও ভারতে এই দিনটি পালিত হচ্ছে ১৯২৩ সাল থেকে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে প্রতি বছর ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা ‘মে দিবস’ রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়। বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে মে দিবসের অসীম গুরুত্ব রয়েছে।
বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ। এদেশে শ্রমিকের সংখ্যা অনেক। এই দিবসের সন্মানার্থে আমাদের দেশে সরকারি ছুটি। শ্রমিকেরা মহা উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সভা, সমাবেশ, মিছিল মিটিং ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে পালন করে এই দিবসটি। মে দিবসের অবদান আগলে রেখেছে শ্রমিকেরা। মে দিবস অন্যায় অবিচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে জোর শপথের দিন। এই দিন শ্রমিকের সাম্য ও মিলনের দিন।
মহান মে দিবস শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের চরম আত্মত্যাগের ন্যায্য অধিকার আদায়ের এক অবিস্মরণীয় দিন। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমজীবী মানুষেরা তাদের শ্রম দিয়ে যাবেন। তবে মালিকরাও শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন; এটাই প্রত্যাশা সকলের।
লেখক- মো. মকসেদ আলী (কবি ও সাহিত্যিক), বুড়াবুড়ি, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...