Logo Logo

পিলখানার ঘটনা সার্বভৌমত্ব নস্যাতের অপপ্রয়াস ছিল : প্রধানমন্ত্রী


Splash Image

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার একটি সুগভীর অপপ্রয়াস।


বিজ্ঞাপন


তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই নির্মম ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে বিচার না পাওয়ার যে নিদারুণ যন্ত্রণা শহীদ পরিবারগুলো সয়েছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘জাতীয় সেনা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা আমাদের সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার সময় থেকেই সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সেনাবাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই বাহিনীকে পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের যে সূচনা করেছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারা অব্যাহত রেখে জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করাকে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, "২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। সেনাবাহিনী ও শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এই স্মৃতিকে অম্লান রাখতে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।"

তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী ছাত্র-জনতার ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, পিলখানার ক্ষত আজও আমাদের জাতীয় জীবনে বহমান। এই রক্তাক্ত দিনটি জাতীয় নিরাপত্তার কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, যা সংস্কারে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

পরিশেষে, মাহে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে শহীদদের আত্মার শান্তি এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...